কালি-কলম,মন! - সিদ্ধার্থ গৌতম


 Sidharto Goutom

‘বাংলাদেশ’ শব্দটি লক্ষ করলে খুব সহজে অনুমেয় যে, এই রাষ্ট্রের প্রাণকাঠামো তার ভাষা। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় এদেশের মানুষ যে সংগ্রাম করেছিল তা বিরল এবং অদ্বিতীয়। সেই আত্মত্যাগের উৎসারণই পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা জুগিয়েছিল আপামর বাঙালিকে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি; অর্জন করেছি ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবোধ গঠনের গৌরব। বাঙালি জাতির অবিসংবাদী নায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে বাংলায় বক্তৃতা করে গোটা বিশ্বের সামনে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ভাষায় লিখেই অর্জন করেছিলেন বিশ্বসম্মান নোবেল পুরস্কার। তাই এ ভাষা আমাদের প্রত্যেকের গর্বের বস্তু, অহংকারের ধন।

শিশু ভাষা শেখে মায়ের কাছে। তার শেখা তখনই পরিপূর্ণতা পায়, যখন সে আপন মনে আঁকিবুঁকি কাটতে কাটতে লিখে ফেলে অ আ। শিক্ষা সবদেশেই গুরুবাদী একটি প্রক্রিয়া। সেভাবে বলতে গেলে প্রকৃতিই হলো মানুষের সবচেয়ে বড় গুরু। কারণ প্রকৃতির কাছ থেকেই মানুষ তার জীবনের পাঠগুলো নেয়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিশুর প্রথম গুরু বা শিক্ষাকর্তা হচ্ছেন তার মা। আধবোলে ভাষা বলা থেকে শুরু করে মাটিতে, দেয়ালে পরিত্যাক্ত কাগজ বা অন্যকোনো মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন বা সংগঠিত অক্ষর বিন্যাস একজন শিশু তার মায়ের হাত ধরেই রপ্ত করে। প্রকৃতিতে মানুষের শিক্ষার বড় একটি পর্যায় ছিল লেখার সক্ষমতা অর্জন করা। হাতের লেখাকে উন্নত ও টেকসই করার জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষ নিরলস পরিশ্রম করেছে। প্রাচীন পুঁথিগুলো দেখলেই আমরা সে বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবো। এখন আমরা খুব সহজেই কাগজ কলম নিয়ে লিখতে বসি। কিন্তু কাগজ ও কলমকে এই পর্যায়ে আনতে মানুষকে বহুবছর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখনও মানুষ লেখার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছে এবং লেখার উপাদান (কাগজ, কলম) কে উন্নত ও আধুনিক করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছে। প্রয়োজনের খাতিরে লিখতে শুরু করলেও হাতের লেখাকে সুন্দর ও শিল্পীত করার প্রচেষ্টা সর্বত্র লক্ষ করা যায়। হাতের লেখার শিল্পীত প্রকাশ হচ্ছে ‘ক্যালিগ্রাফি’। হাতের সুন্দর লেখা একজন মানুষের ব্যক্তিবোধকে উন্মোচন করে। সেকারণে ছোট বয়স থেকেই মা-বাবা শিশুর হাতের লেখার যত্ন নেন। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের হাতের লেখা সুন্দর করার নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ইন্টারনেট থেকেও হাতের লেখা সুন্দর করার নানা পরামর্শ পাওয়া যায়। সুন্দর লেখা সবার প্রশংসা পায়; এমনকি এটি শিল্পেরও মাধ্যম। বইয়ের প্রচ্ছদসহ নানারকমের উপরিপাঠ মাধ্যমগুলো ডিজিটালাইজ হলেও হস্তলিখন এখনও এসবক্ষেত্রে সমান গ্রহণযোগ্য। একটু চোখ মেললেই এরকম হস্তলিখন আমরা আমাদের চারপাশে দেখতে পাবো। সুন্দর হস্তলিখন এবং তার উন্মোচন নিয়েই ফাউন্টেন পেন বাংলাদেশ আয়োজন করেছে অনলাইনভিত্তিক হস্তলিখন প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই সাড়া ফেলেছে এবং আমরা অসম্ভব সুন্দর হস্তলিখনের নমুনা প্রত্যক্ষ করছি।

ফাউন্টেন পেনস বাংলাদেশ মূলত কাগজে কলমে লিখিয়েদের একটি সংগঠন। যারা চমৎকার করে লিখতে চায় এবং তা নিয়ে আসতে চায় সবার সামনে এ সংগঠন তাদের স্বাগত জানায়। এ সংগঠন আয়োজিত ‘পাইলট হ্যান্ড রাইটিং কম্পিটিশান’ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হাতের লেখাকে আরও সুন্দর করে একটা শিল্পীত আভা ছড়ানো। সেসঙ্গে এই সংগঠন আরও একটি বিষয়কে উৎসাহিত করে ফাউন্টেন পেনের ব্যবহার। ফাউন্টেন পেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অসাধারণ এক পরিভাষা করেছেন শব্দটির। তিনি একে বলেছেন ঝর্ণা কলম। সত্যিই তো এই কলমে কালি ঝর্ণাধারার মতো প্রবাহিত হয়। যিনি এ কলমে লেখেন, তিনি শুধু লেখেন না সঙ্গে আনন্দও নেন। বিজ্ঞান ও সভ্যতার অগ্রগতিতে মানুষের অযাচিত ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেছে। তাই কাগজ কলমে লেখা মানে শখের লেখা এ ধারণা এখন অনেকেরই। বেশিরভাগ মানুষ এখন কম্পিউটারের সামনে বসে কিবোর্ড চেপে লেখে এবং তা পছন্দমতো ফন্টে প্রিন্ট করে নেয়। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও ইদানিং এ প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এরকম লেখালেখিতে প্রয়োজন মেটে, তবে এতে কোনো আত্মগৌরব নেই। যদিও দাপ্তরিক প্রয়োজনে কম্পিউটারের ব্যবহার অনিবার্য, তবুও পরিশ্রম করে হাতে লেখার একটা সত্যিকারের গুরুত্ব আছে। বিশ্বজুড়ে এখনও হাতে লেখার সামগ্রীর বিপণন চোখে পড়ার মতো। ই-বুক প্রচলনের পর ধারণা করা হয়েছিল মুদ্রিত বই বোধহয় খুব অল্পসময়ের মধ্যে জাদুঘরে স্থান পাবে। কিন্তু তা হয়নি; বরং বৈশ্বিক মহামারির দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত জিনিসের তালিকার উপরের দিকে রয়েছে বই। তাছাড়া সারাবছরই মুদ্রিত বই প্রকাশ পাচ্ছে এবং তা বিক্রি হচ্ছে।

ফাউন্টেন পেন সম্পর্কেও নানা মিথ প্রচলিত আছে। বর্তমানে এটিকে সৌখিন লেখার সামগ্রী বলা হলেও এর চাহিদা ও গুরুত্ব ব্যাপক। একজন ফাউন্টেন ব্যবহারকারী তার আশপাশের মানুষদের চেয়ে চিন্তায় একটু হলেও আলাদা হয়। যারা মনে করে ফাউন্টেন পেন একটি সৌখিন ঘর সাজানোর সামগ্রী বা এটির ব্যবহার সহজসাধ্য নয়, তারা আসলে কখনোই কলমটিকে বোঝার চেষ্টা করেনি। একটি বলপয়েন্ট বা অন্য যেকোনো কলমের সঙ্গে একটি ফাউন্টেন পেনের গঠনগত ও ব্যবহার্য দিকের পার্থক্য রয়েছে। যারা এ বিষয়টিকে আনন্দের সঙ্গে নিতে পারে না, তাদের কাছে এই কলম ও কলমের ব্যবহার দুর্বোধ্য থেকে যাবে। আর সাধারণভাবে দুর্বোধ্য কোনো বিষয়কে আমরা ঝামেলার বলেই মনে করি। তবে সাহস করে একবার যদি আমরা এ কলম হাতে তুলে নিই, তবে মুগ্ধ হতে বাধ্য হবো। সেজন্য অবশ্য কিছু দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। ফাউন্টেন পেন বাংলাদেশ-এর সভ্যরা মূলত নতুনদের এই কলম ব্যবহারের প্রতি উৎসাহিত করে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে। প্রতিনিয়ত এই সংগঠনের সদস্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে বোঝা যাচ্ছে দিন দিন এই কলমের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু বছর পূর্বেও ফাউন্টেন পেনই ছিল মানুষের মানুষের লেখার একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু কালের বিবর্তনে আমরা বিষয়টিকে মিথে পরিণত করের্ছি। এখন এই মিথ ভেঙে আমাদের সময়নিষ্ঠ হতে হবে। যদিও বাংলাদেশে ফাউন্টেন পেন উপযোগী কাগজ এখনও অপ্রতুল, তবুও আমরা মনে করি ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যারও সমাধান হবে।

আমার কাছে ফাউন্টেন পেন এক আলাদা তাৎপর্য রাখে। পড়াশোনা শেখার প্রাক্কালে এ কলম আমার হাতে আসে। তবে তখন ভালোমানের কাগজ পাওয়া ছিল প্রায় দুঃসাধ্য। সস্তা কাগজেই এ কলম দিয়ে লিখতে হতো। তাতে লেখা হতো ঠিকই, কিন্তু আনন্দ হতো না। কারণ সস্তা কাগজে খুব তাড়াতাড়ি কালি ছড়িয়ে পড়তো এবং কখনও কখনও পাতা এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে যেতো। সবমিলিয়ে ভালো লাগতো না। পরীক্ষার খাতাতেও এ কলম দিয়ে লেখা যেতো না। একসময় ফাউন্টেন পেনের পাশাপাশি বলপয়েন্ট, জেলপেন, রোলার বলপেন দিয়ে লেখা শুরু করলাম। তারপর যখন অফসেট ও কর্ণফুলী কাগজের সঙ্গে পরিচয় হলো, তখন আবার ফাউন্টেন পেন ব্যবহার শুরু করি। তবে আমি কখনোই এ কলম দিয়ে পরীক্ষা দেই নি। নোটখাতাগুলো কর্ণফুলী পেপার দিয়ে তৈরি করে তাতে ফাউন্টেন পেন দিয়ে লিখতাম। তখনও খুব ভালো কালির সঙ্গে পরিচয় হয় নি। এভারেডি, হিরো বা সর্বোচ্চ পাইলট কালি ছিল নিত্যসঙ্গী। পেলিকেন কালির সঙ্গে পরিচয় হয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। তবে স্কুলজীবনে এ কালির বোতল আমি আমার এক বন্ধুর টেবিলে দেখেছিলাম। সেই বন্ধু ছিল আমার দেখা একজন সেরা ফাউন্টেন পেন প্রেমিক। ঐ সময়েই তার কাছে জাপানি পাইলট আর ফ্রান্সের তৈরি আসল পার্কার কলম ছিল। আমার কাছে ভালো কলম এসেছিল অনেক পরে। বেশিরভাগ সময় চাইনিজ কলম দিয়েই লিখেছি। বার বার কলম ধরতে না পারার অপটুতায় নিব নষ্ট হয়েছে। আবার সেটা পরিবর্তন করতে ছুটে গেছি। এভাবেই ফাউন্টেন পেনের সঙ্গে একাত্মতা তৈরি হয়। কালি সংরক্ষণের পদ্বতি জানতাম না। কখনও কালি জমে যেতো, আবার কখনও ঘন হয়ে যেতো। সেগুলোতে আবার জল মিশিয়ে লিখতাম। খুব মজার ও আনন্দের ছিল একাজগুলো। এখন যেমন অনেকেই এটাকে শখ মনে করে, আমার ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। ফাউন্টেন পেন আমার জন্য অপরিহার্য ছিল। ভালো কলম, নতুন কালি কেনার প্রতি ভীষণ ঝোঁক ছিল আমার। বাড়ি থেকে বকুনিও খেয়েছি। বই আর কলম আমার কাছে আমার দুটো ফুসফুস। কখনও এ দুটো জিনিসকে আমি ছাড়িনি। পছন্দমতো বই দেখামাত্র কেনার চেষ্টা করেছি। কলম অপেক্ষাকৃত ব্যায়বহুল। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমার মতো সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

অসম্ভব পছন্দ করি আমি ফাউন্টেন পেন। যখন কাগজের উপর কলম দিয়ে দাগ দিই, মনটা আনন্দে ভরে যায়। এমন দিন খুব কম গেছে যেদিন আমি ফাউন্টেন পেন দিয়ে কিছু লিখি নি। বাজারের ফর্দ থেকে রিভিউ জার্নাল সবই ফাউন্টেন পেন দিয়ে লিখেছি এবং এখনও লিখছি। শিক্ষকতা করার সুবাদে লেখালেখির স্বাভাবিক একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে সবসময় যুুক্ত থাকতে হয়। তাই আমার জন্য কলম ব্যবহার একটু সহজও বটে! এটা আমার ওপর একপ্রকার আর্শীবাদ বলেও আমি মনে করি। যেকোনো লেখাই তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে যদি তাতে মানুষের কল্যাণ নিহিত থাকে। আর তা যদি কাগজের উপর সুন্দর হস্তাক্ষরে প্রতিস্থাপিত হয়, তাহলে পায় আলাদা মর্যাদা। সুন্দর কাগজে সুন্দর কালি ও কলম ব্যবহার করে কিছু লিখলে তা আপনাকে আলাদা এক প্রশান্তি দেবে। যারা ডাইরি লেখে বা কাজের পরিকল্পনা করে এবং তাকে লিখিত আকারে রাখে; তাদের প্রতিদিন টেবিলে বসতে হয়। ছাত্রদের জন্য প্রতিদিন টেবিলে বসা অবশ্য কর্তব্য। এতে লেখাপড়ার অভ্যাস জীবন্ত থাকে। অনেক কর্মজীবী মানুষও প্রতিদিন টেবিলে বসে তার আত্মজ্ঞানকে প্রসারিত করেন। আর এসব কাজের সঙ্গে ফাউন্টেন পেন যুক্ত হলে সত্যিকার অর্থে তা আনন্দের হয়ে ওঠে।

পূর্বেই বলেছি ফাউন্টেন পেন দিয়ে আমার লেখার বয়স অনেক পুরোনো। কিন্তু সংগ্রহের বিষয়টি অনেক পরে এসেছে আমার মধ্যে। এক্ষেত্রে আমি নবীন; একেবারেই নবীন। এই গ্রুপে অনেক সমৃদ্ধ মানুষ আছেন, যাদের কাছে থেকে আমি শিখেছি এবং প্রতিনিয়ত শিখছি। সময় পেলে ইন্টারনেট থেকেও দেখে শেখার চেষ্টা করি। কী বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কলম সংগ্রহ করতে হয়; সংগ্রহের তাৎপর্য ইত্যাদি বিষয়ে অনেকেই বিশদজ্ঞান রাখেন। তাদের কাছে থেকে শিখতে পারাটা আমার জন্যে সৌভাগ্যের। আমার সংগ্রাহক হবার বয়স ৩ বছর বা তার থেকেও কম। অবশ্য আমি যেখানে থাকি সেখানে কলম সহজলভ্যও ছিল না। মাঝে মাঝে ঢাকায় গেলে কলম কেনা হতো। এভাবেই ঢাকা নিউমার্কেট থেকে পাইলট মেট্রোপলিটন কলম কয়েকটা কেনা হয়েছে। আমার অন্য কলমগুলো বিগত ৬ মাসের মধ্যেই সংগ্রহ করা। পকেট পেন বা ছোট কলম আমার খুব ভালো লাগে না। সাধারণ আকারের কলমই আমার জন্য সবচেয়ে ভালো। কালো ও নীল কালির সবরকম ভ্যারাইটি আমার ভালো লাগে। এ দু রঙের কালির বেসিক ও ভ্যারাইটি আমি ব্যবহারের চেষ্টা করি একটু বেশি। নীল কালির মধ্যে ডায়ামাইন ব্লু ভেলভেট ( ২ মিলি স্যাম্পল ব্যবহার করে প্রেমে  পড়েছি) আমার খুব প্রিয়। এছাড়া ডায়ামাইন অক্সফোর্ড ব্লু, ম্যাজেসটিক ব্লু, ওয়াটারম্যানের ব্লু আমার ভালো লাগে। কালো কালির মধ্যে নডুলার্স এক্সফেদার, হার্ট অব ডারক্নেসÑ দুটোই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়া ডায়ামাইন ওনেক্স ব্লাক, জেট ব্লাক, লামি ব্লাক আমার খুব ভালো লাগে। আয়রন গল, সিনিং বা পিগমেন্টেড কালি এখনও ব্যবহার করা হয়নি।

আমার কাছে খুব দামি কলম বা গোল্ড নিব পেন নেই। সংগ্রহ করার ইচ্ছে আছে। বিশেষ করে ‘পাইলট কাস্টম ৭৪’ দিয়ে একটু লেখার সুবাদে ওটার প্রতি আলাদা একটা টান আছে। স্টিল নিব কলমের থেকে গোল্ড নিব কলম দিয়ে লিখলে বেশি মজা পাওয়া যাবে। আবার এটাও ঠিক গোল্ড নিব কলম ব্যায়বহুল অনেকগুলো কেনা অসম্ভব। অনেকের একটাই থাকে। আমার কাছে থাকা স্টিলনিব কলমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি লামি। এই কলমটার গ্রিপ আমার হাতে দারুণ ফিট করে। তাছাড়া লামি সাফারি ওজনে হালকা; একটানা অনেকক্ষণ লেখা যায়। খুব ভারি কলম দিয়ে আমি বেশিক্ষণ লিখতে পারি না। টুইসবি ৫৮০ আমার খুব পছন্দের কলম হলেও ওটা দিয়ে আমি বেশিক্ষণ লিখতে পারি না। পাইলট ইন্ক ট্যাঙ্কও আমার খুব ভালো লাগে। এতে অনেকটা কালি ধরে এবং অনেকক্ষণ লেখা যায়। প্লাটিনাম প্রিফাউন্টে দিয়েও লম্বা সময় লেখা যায়। তবে ওর গ্রিপ একটু মোটা হবার কারণে দ্রুত লিখতে পারি না। এরকম বিচ্ছিন্নভাবে আরও কিছু কলম ব্যবহার করেছি। তা থেকে মনে হয়েছে নিবের স্মুথনেস, ইন্ক ক্যাপাসিটি, ওয়েট এবং লুক সবমিলিয়ে একটা ড্রিম পেন তৈরি হয়। সেটা ৫০০ ডলারেরও হতে পারে, ৫০ ডলারেরও হতে পারেÑ একেবারেই যার যার নিজস্ব ব্যাপার। তাই দাম বেশি হলেই যে সেটা আপনার বা আমার জন্য খুব ভালো হবে; আর কম হলে যে হবে না সেটা ঠিক নয়। কলম কেনার আগে সেটা সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া ভালো। অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি, যাদের হাতের লেখা ছোট এবং কাগজের বিষয়ে বাধ্যবাধকতা নেই, তারা এক্সট্রা ফাইন বা ফাইন নিব ব্যবহার করলে ভালো হবে। যাদের লেখা বড় এবং ভালো কাগজ ব্যবহারের সুযোগ আছে তারা মিডিয়াম নিব ব্যবহার করলে ভালো হবে। তবে সত্য এই যে, নিব যতো মোটা হবে, কালির বৈশিষ্ট্য তত ভালো ফুটে উঠবে।

আমি অযাচিতভাবে অনেক কথা বলে ফেললাম; সেকারণে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি অসাধারণ এই আয়োজনের সাফল্য কামনা করছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ফাউন্টেন পেন বাংলাদেশের প্রতি যারা আমাকে একটু লেখার সুযোগ দিয়েছেন। যারা এই প্রতিযোগিতায় (পাইলট হ্যান্ড রাইটিং কম্পিটিশান ২০২১) বিজয়ী হবেন, তাদের আমি অভিনন্দন জানাই। যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের সবার জন্য শুভকামনা। সবার মঙ্গল হোক। ভালো থাকবেন সবাই।

সিদ্ধার্থ গৌতম 

সহকারী অধ্যাপক

বাংলা বিভাগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

Related Posts

ফাউন্টেনপেন ১০১ - ডাজ নিব সাইজ ম্যাটার? - আতিকুর রহমান
ফাউন্টেনপেন ১০১ - ডাজ নিব সাইজ ম্যাটার? - আতিকুর রহমান
ডাজ নিব সাইজ ম্যাটার ? বিগিনার হিসেবে ফাউন্টেন পেন কিনতে গেলে কমন একটা প্রশ্ন আসে, নিব সাইজ কি হবে? ফাইন নাকি মিডিয়া...
Read More
ফাউন্টেন পেন হবি - টিপস ফর বিগিনারস - আতিকুর রহমান
ফাউন্টেন পেন হবি - টিপস ফর বিগিনারস - আতিকুর রহমান
১। প্রথমেই চাইনিজ কলম না - ধরেন, আপনার দুই বিদেশী বন্ধু এসেছে বাংলাদেশে ঘুরতে। তারা আপনার কাছে আবদার করেছে এই দেশে...
Read More
ভালবাসায় ফাউন্টেন পেন - গিয়াস উদ্দিন
ভালবাসায় ফাউন্টেন পেন - গিয়াস উদ্দিন
পাইলট হ্যান্ড রাইটিং কম্পিটিশান ২০২১ এ ফাউন্টেন পেনস বাংলাদেশ এর জন্য লিখবো ভেবে ক’দিন ধরে ফাউন্টেন পেন এর ওপর তথ্য খ...
Read More

Leave a comment


Please note, comments must be approved before they are published